মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি

০১টি পৌরসভা ও ০৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা গঠিত।

 

সরিষাবাড়ী, জামালপুরের প্রাগ ধারণা :

১) তদানিন্তন বৃটিশ শাসনামলে বর্তমান চর সরিষাবাড়ী ছিল আদি সরিষাবাড়ী। খরস্রোতা যমুনার কড়াল গ্রাসে আদি সরিষাবাড়ী বিলুপ্ত। তখন ছিল নদীর নাব্যতা চলাচল করতো ষ্টীমার,জল জাহাজ। নদী বিধৌত চার ইউনিয়নের পিংনা, পোগলদিঘা, আওনা, কামরাবাদ অধিকাংশ ভূমিতেই সরিষা আবাদ হতো। বীর অঞ্চলের এই চারটি এলাকাতেIপ্রচুর সরিষা আবাদ হতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বাণিজ্য করার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা আসতো সরিষা কিনতে সে সময়কাল হতেই এই স্থানটির নাম রাখা হয় সরিষাবাড়ী। কে কবে কোথায় কোন সময়ে কোন তারিখে এই স্থানটির নামকরণ করেন তার সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় নি।

২) যমুনা বিধৌত ঝিনাই, সুবর্ণখালী বেষ্টিত এই সরিষাবাড়ী। তদানিন্তন কাগমারী পরগনায় অবস্থিত ছিল এই সরিষাবাড়ী।

 

৩) পাটশিল্প সমৃদ্ধ এই সরিষাবাড়ীতে ২২টি পাকা কাচা জুট প্রেস হাউজ ছিল। ২২,০০০ বাইশ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিল। বাংলাদেশের পাট ব্যবসায়ী কেন্দ্র হিসেবে নারায়নগঞ্জের পরই ছিল ২য় ডান্ডি হিসেবে খ্যাত ৮৫% ভাগ লোকই ছিল পাট ব্যবসায়ী। আজ তা বিলুপ্তির পথে।

৪) সরিষাবাড়ী অবস্থিত ৫নং পিংনা ইউনিয়নে ফৌজদারী আদালত কোর্ট কাচারী বলবৎ ছিল বৃটিশ শাসনামলে। কুম্ভকার সম্প্রদায় মাটির হাড়ি-পাতিল তৈরীতে বিখ্যাত এখনো রয়েছে। ১৮৯৬ সালে পিংনা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত। স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, কবি কায়কোবাদ, পিংনায় পোস্ট মাস্টার পদে থাকাকালীন অবস্থায় আযান কবিতা প্রণয়ন করেন।

৫) ডোয়াইল ইউনিয়নে প্রচুর হিন্দু অবস্থিত ছিল। ডোয়াইলের চরের মুগ ডাল ছিল প্রসিদ্ধ। অত্র বৃহত্তর ময়মনসিংহে মুগ ডাল সোনামুগ হিসেবে প্রচলিত ছিল।

৬) পোগলদিঘা ইউনিয়ন সরিষাবাড়ী উপজেলার সর্ববৃহ ইউনিয়ন। এশিয়ার সর্ব বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত।

৭) মহাদান ইউনিয়ন সনাতন ধর্মীয় প্রাদপীঠ খাগুড়িয়া গ্রামের নামানুসারে এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয় সুদূর ভারত হতে এখানে হিন্দু/মুসলমান ৩০,৪০ হাজার লোকের আগমন ঘটে এবং তিনদিন ব্যাপী মেলা বসে। এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে শ্রী শ্রী খাগড়িয়া কালী মাতা মন্দির। এই মেলা সবচেয়ে বড়। এছাড়া বছরে আরো ৪টি মাঝারী অনুষ্ঠান হয়। অগ্রহায়ন মাসের শেষ শনিবার ১৩ ডিসেম্বর-২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

৮) পুরাতন জগন্নাথগঞ্জ ঘাট ষ্টীমার ষ্টেশন ছিল। নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে ষ্টীমার ঘাটটি বিলুপ্ত। এটি ছিল আওনা ইউনিয়নের অন্তর্গত।

৯) রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় (১৩৩৫ বাংলা সনে প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম) বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরিষাবাড়ী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। বাংলাদেশের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি একটি মানব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান।

১০) সরিষাবাড়ী দুটি বাজার দু‌ই দিকে অবস্থিত। একটি শেরপুরের জমিদার গোপাল দাস চৌধুরী ওটাংগাইলএর জমিদার সন্তোষ জমিদার নামে খ্যাত।রানী দিন মনি চৌধুরানী এর একটি অংশের কর্তৃত্ব করতেন। তখন হতেই শিমলা এবং রামনগর বাজারে অবস্থানরত লোকজনদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। রামনগর বাজারের নাম পরিবর্তন করেন তদানিন্তন পাকিস্তান আমলের শেষের দিকে মরহুম রিয়াজউদ্দিন তালুকদার সাহেব। পরিবর্তিত নাম আরামনগর।

ছবি